
মো: জাহিদুল ইসলাম, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।
পবিত্র ঈদ-উল ফিতরে আনন্দ উপভোগ করতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দেশের বৃহত্তর তিস্তা ব্যারাজে ডালিয়া এলাকায় বিনোদনপ্রেমী মানুষের ঢল। ঈদের নামাজ শেষ হতেই ব্যারাজে মানুষের সমাগমে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। উৎসব আর আনন্দে মেতে উঠেছে পুরো তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া এলাকা।
অপর দিকে তিস্তার ভাটিতে নৌকা আর স্পিডবোটে এ যেন সমুদ্রের তীরের সৈকতের ছোঁয়া। স্পিডবোর্ড আর পালতোলা নৌকায় উঠবার জন্য অপেক্ষা করছে দর্শনার্থীরা। প্রতিবছর ঈদ ও নানা উৎসবের দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়েছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া এলাকা।
ঈদের দিন বিকেল থেকে তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া এলাকায় দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থান থেকে কেউ আসছে মটর বাইকে কেউ বা অটোরিকশায় আবার কেউ বা মাইক্রোবাসে। তিস্তা পাড়ে চলছে আনন্দ উল্লাস। এতে তিস্তা ব্যারাজ এলাকা জুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া এলাকা যেন মিনি কক্সবাজারে পরিণত হয়েছে। তিস্তা স্পিডবোট চলছে দ্রুত বেগে এপাশ থেকে ওপাশে ছুটে চলছে পর্যটকদের নিয়ে। স্পিডবোট ও পালতোলা নৌকায় তিস্তার বুকে ভাসছেন দর্শনার্থীরা। এতে বয়সী মানুষ হৈ হুল্লোড়ে মেতে উঠছেন সবাই। তিস্তা ঢেউ এসে ধাক্কা দিচ্ছে তিস্তার কূলে। ছিটকে আসা জলরাশির আনন্দে মেতে উঠছে সবাই।
তিস্তা ব্যারাজে ডালিয়া এলাকা আনন্দের মাত্রা বাড়াতে ক্যামেরা ও মোবাইল ফোনে ছবি তুলে স্মৃতির ফ্রেমে বন্দি করছেন প্রিয় মুহূর্তগুলো। সবার জন্য উন্মুক্ত বিনোদন কেন্দ্রটি ঈদ দিন থেকে কয়েক দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষের পদচারণায় মুখোরিত হয়ে থাকে। একেবারে গ্রাম্য পরিবেশে হলেও নিরাপত্তা নিয়ে তেমন কোনো ঝুঁক্কি পোহাতে হয় না দর্শনার্থীদের। তিস্তা পাড়ে ছোট ছোট দোকানে সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যায় নাস্তা ও বিভিন্ন খাবার।
ঈদের ছুটিতে সব বয়সী মানুষের ভিড় জমলেও এখানে আসা সিংহভাগই তরুণ-তরুণী। শিশুদের সঙ্গে অভিভাবকরাও কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে যাচ্ছেন আনন্দের রাজ্যে। ঈদের আনন্দে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা বলেন, অত্র এলাকায় কোনো বিনোদনকেন্দ্র না থাকায় প্রতিবছর ঈদ ও নানান উৎসবে আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া এলাকায় ছুটে আসি। আনন্দ উপভোগ করে ছুটি শেষে কর্মস্থলে চলে যাই।
ডিমলা উপজেলা থেকে আসা কয়েক দর্শনার্থী বলেন, ঈদের দ্বিতীয় দিন আজ, খুবই আনন্দ লাগছে অনেক মজা করছি আমরা এখানে। আমি আমার স্বামী, ছেলে-মেয়ে নিয়ে এখানে ঘুরতে এসেছি, এক মাস রোজার পর এই ঈদ অনেক খুশি লাগছে যা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।